1. boalmari@gmail.com : Korban Ali : Korban Ali
  2. boalmaribartabd@gmail.com : administrator : Hasan Mahmud Milu
  3. boalmaribarta@gmail.com : Kurban Ali : Kurban Ali
  4. jmitsolution24@gmail.com : support :
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ন
Title :
বোয়ালমারীতে শতবর্ষী কালী মন্দিরে ভাঙচুর বোয়ালমারীতে গোরস্থানের বাঁশ চুরি ও অর্থ আত্মসাতের প্রতিবাদে এলাকাবাসী সংবাদ সম্মেলন বোয়ালমারীতে পাট বীজ চাষীদের প্রশিক্ষণ ভাটপাড়ায় যুবকের লাশ উদ্ধার বোয়ালমারীতে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী পালন ” কবি সখিনা হোসেন: জীবন ও কর্ম” শীর্ষক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত লন্ডনের কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেন বোয়ালমারীর কৃতি সন্তান এম.এম. শামসুল আজম খাল খননের আড়ালে সামাজিক বনায়নের গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবীতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন গর্বের অর্জন • পরিবারের স্বপ্নপূরণ • এলাকার অহংকার বোয়ালমারীতে হিন্দু যুবকের বিরুদ্ধে মুসলিম মেয়েকে বিয়ের প্রলোভনে প্রতারণার অভিযোগে আদালতে মামলা

আসাদুজ্জামান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কর্মচারী নিয়োগে তিনপদের দুইপদের প্রার্থীরাই অনুপস্থিত প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগ

  • Update Time : শুক্রবার, ২৪ মে, ২০২৪
  • ৬৬৬ Time View

বোয়ালমারী প্রতিনিধি: ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার আসাদুজ্জামান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের তিনপদের কর্মচারী নিয়োগে দুইপদের প্রার্থীদের অনুপস্থিত দেখা গেছে। ওই বিদ্যালয়ে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের কর্মচারী নিয়োগে বানিজ্যের অভিযোগের মধ্যেই এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে গত রবিবার বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির অভিভাবক সদস্য, স্থানীয় পৌর কাউন্সিলরসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।
গত শুক্রবার (২৪ মে) নিয়োগ পরীক্ষায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (এনডিসি) এএসএম শাহাদাত হোসেনে নেতৃত্বে আলফাডাঙ্গা আসাদুজ্জামান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে তিনটি পদের দুই পদের প্রার্থীরা অনুপস্থিত থাকায় একটি পদে নিয়োগ সম্পন্ন হয়।
নিয়োগের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা আসাদুজ্জামান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর, পরিচ্ছন্নকর্মী ও আয়া পদে নিয়োগের লক্ষ্যে গত শুক্রবার (২৪ মে) সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে পরীক্ষার দিন ধার্য্য করা হয়। তিনপদের মধ্যে ল্যাব সহকারীতে ৪জন, পরিচ্ছতাকর্মীতে ৪জন ও আয়া পদে ১৩জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষার জন্য প্রবেশপত্র দেওয়া হয়। অভিযোগ ওঠে নিয়োগ পরীক্ষার আগেই বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক যোগসাজসে কয়েকজন প্রার্থীদের নিকট থেকে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহণ করেছেন। চাহিদানুযায়ী অর্থ না পাওয়ায় কয়েকজন প্রার্থীর থেকে নেওয়া অর্থও ফেরত দেন তারা। মোটা অংকের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। নিয়োগে প্রার্থী পাল্টানোর জন্য ২০২৩ সাল থেকে পরপর তিনবার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ চলতি বছরের মার্চ মাসে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় যে, পূর্বে যারা আবেদন করেছেন পুনরায় তাদের আবেদন করার প্রয়োজন নেই। তারপরও কয়েকজন নিয়োগ প্রার্থী প্রবেশপত্র পায়নি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। অবৈধভাবে নিয়োগ বাণিজ্য সভাপতি-প্রধান শিক্ষক যাতে করতে না পারেন সেজন্য নিয়োগ বন্ধ করার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, স্থানীয় পৌর কাউন্সিলরসহ ৮জন ব্যক্তি। তাদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক বিষয়টি তদন্ত করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমীন ইয়াসমিনকে দায়িত্ব দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বুধবার বিকেলে উভয়পক্ষকে নিয়ে শুনানি শেষে জেলা প্রশাসককে জানানোর পর নিয়োগ পরীক্ষায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (এনডিসি) মো. শাহাদাত হোসেনকে দায়িত্ব দেন।

শুক্রবার (২৪মে) পরীক্ষা চলাকালীন বিদ্যালয় চত্বর ঘুরে দেখা যায়, নিয়োগ পরীক্ষায় তিনপদের মধ্যে ল্যাব সহকারীতে ৪জন, পরিচ্ছতাকর্মীতে ৪জন ও আয়া পদে ১৩জন পরীক্ষার্থী প্রবেশপত্র পেলেও আয়া পদের ৮জন ও পরিচ্ছতাকর্মী ২জন বাদে ল্যাব সহকারীতে কেউ উপস্থিত হয়নি। নিয়োগে বৈধতা থাকতে প্রত্যেক পদে কমপক্ষে তিন পরীক্ষার্থী থাকা প্রয়োজন। সেখানে আয়া পদে ৮জন প্রার্থী ও পরিচ্ছতাকর্মী পদে দুইজন প্রার্থী হাজিরায় স্বাক্ষর করেন এবং ল্যাব সহকারী পদে সবাই অনুপস্থিত। নিয়মানুযায়ী আয়া পদের ৮জন নিয়োগ পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। শুক্রবার সকাল ১১টায় পরীক্ষা শুরু হয়ে লিখিত পরীক্ষা ১২টায় শেষ হয়। ৮জনের মধ্যে তিনজন লিখিত পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ণ হন। তিনজনের মৌখিক পরীক্ষা শেষে বেলা ২টায় ডলি খানম নামে একজন প্রার্থী বেশি মার্ক পাওয়ায় তাকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেন নিয়োগ কমিটি। পরিপত্র অনুযায়ী কাঙ্খিত পরীক্ষার্থী উপস্থিত না হওয়ায় ল্যাব সহকারী ও পরিচ্ছনতাকর্মী পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়।

ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য আরব আলী ও শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা কয়েকজন সদস্য সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ দেওয়ায় নিয়োগে আমাদের মৌখিক দাওয়াতও দেননি তারা। নিয়োগে যে, সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক দুর্নীতি করার পায়তারা করছিল। সেটার প্রমান তিনপদের মধ্যে দুইপদেই পরীক্ষার্থীরা উপস্থিত হয়নি। তবে জানতে পেরেছি, নিয়োগ প্রার্থীদের নিকট থেকে আদায়কৃত ৩১ হাজার টাকারও খরচের হিসাব দিতে পারেননি তারা। তবে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এনডিসির নেতৃত্বে আয়া পদে নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। স্কুলের কর্মচারী নিয়োগ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা করায় জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ।

এ ব্যাপারে নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ও স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, নিয়োগ বিধি মেনেই আয়া পদে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হয়। ওই পদে ১৩জন প্রার্থীর মধ্যে ৮জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেন। লিখিত পরীক্ষায় ৩জন উত্তীর্ণ হন। তিনজনের মধ্যে ডলি খানম নামে এক পরীক্ষার্থী সবোর্চ বেশি নম্বর পাওয়ায় তাকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছেন নিয়োগ কমিটি। তিনটি পদের মধ্যে পরিপত্র অনুযায়ী কাঙ্খিত পরীক্ষার্থী উপস্থিত না হওয়ায় ল্যাব সহকারী ও পরিচ্ছনতাকর্মী পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমার দেখা মতে এর চেয়ে আর স্বচ্ছ নিয়োগ হতে পারে না। আমি যতদিন এই স্কুলে আছি কোন নিয়োগ থাকলে এ রকমই স্বচ্ছ নিয়োগ দেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (এনডিসি) এ এস এম শাহাদাত হোসেন বলেন, তিনটি পদের মধ্যে একটি পদে নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি দুইটি পদে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নিয়োগ প্রার্থী উপস্থিত না হওয়ায় পদ দুইটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার “সভাপতি-শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ” শিরোনামে দৈনিক কালের কণ্ঠের ১২ পাতায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

এছাড়া বর্তমান কমিটির মেয়াদ এ বছরের ১২ জুলাই পর্যন্ত। নতুন কমিটি নির্বাচনের জন্য ৭ মে তফসীল ঘোষণা করা হয়েছে। এই তফসীল ঘোষণায়ও রয়েছে ব্যাপক দুর্নীর্তি। প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে তফসীল ঘোষণা করেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আশরাফুর রহমান। ২৫ এপ্রিল বাংলাদেশ গেজেট এর এক বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, উপজেলা পর্যায়ে মনোনয়নপত্রের মূল্য এক হাজার টাকা। সেক্ষেত্রে মনোনয়নপত্র বাবদ ১০ হাজার টাকা করে ৯জন প্রার্থীর নিকট থেকে মোট ৯০ হাজার টাকা নেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের সামর্থ্য ও গুরুত্ব অনুযায়ী প্রয়োজনে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রচারের বিধান থাকলেও তা প্রচার করা হয়নি। ব্যাপক প্রচার এড়িয়ে শুধুমাত্র বর্তমান কমিটির পছন্দের লোকদের দিয়ে কমিটির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল বর্তমান কমিটি। আদায়কৃত ৯০ হাজার টাকা অহেতুক বিল-ভাউচার দিয়ে নষ্ট করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে উধ্বর্তন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2022
Design & Development by : JM IT SOLUTION