
বোয়ালমারী প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে উপজেলা ও পৌর বিএনপির একাংশের উদ্যোগে কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলায় কারাভোগের পর সদ্য মুক্তি পাওয়া যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমান সজিবসহ কারামুক্ত বিএনপি নেতা-কর্মীেদর ফুলেল শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে বোয়ালমারী হাসপাতাল রোডস্থ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক, বোয়ালমারী সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি সামসুদ্দিন মিয়া ঝুনুর বাসভবনে এ কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ভিপি সামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর রহমান বাবু।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ডা. আব্দুস সবুর এর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা ও বোয়ালমারী সরকারি কলেজের সাবেক জিএস জাহাঙ্গীর আলম মিয়া মুকুল, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর মিনাজুর রহমান লিপন, বিএনপি নেতা মফিজুর কাদের খান মিল্টন, জাহাঙ্গীর আলম কালা মিয়া, শেখর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সাবেক উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি রইসুল ইসলাম পলাশ মিয়া, প্রফেসর শাহিন এবং শ্রমিক দলের সভাপতি কামাল আহমেদ, স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা মো. মনির হোসেনসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সারাদেশে বিএনপি ভূমিধস বিজয় অর্জন করলেও ফরিদপুর-১ আসনে বিগত নির্বাচনী পরাজয়ের দায়ভার প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের। তারা দাবি করেন, প্রকৃত ত্যাগী ও পরীক্ষিত বিএনপি নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করে আওয়ামী লীগের সাবেক পদধারী ব্যক্তিদের প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে চলছেন খন্দকার নাসির। শেখর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী কামাল আহমেদকে তিনি বিএনপির ছায়াতলে জায়গা করে দিয়েছেন, পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের পদধারী আ. মান্নান মাতুব্বর যে গত ১৭ বছর বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর নির্মম অত্যাচার চালিয়েছে একাধিক ব্যক্তিকে হত্যাসহ ২০/২৫ জন নেতাকর্মীকে অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পঙ্গু করে দিয়েছে তাকেও তিনি বর্তমানে এমপি মন্ত্রীদের এনে তাদের হাতে ফুল দিয়ে দলে ভিড়াচ্ছেন। আর পরিক্ষিত নেতা কর্মীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠাচ্ছেন। এর ফলে দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীরা উপেক্ষিত হচ্ছেন এবং দলীয় কর্মকাণ্ডে বিভাজন সৃষ্টি হচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থাকা বিএনপির অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী নানা হয়রানি ও মামলার শিকার হচ্ছেন। অথচ সুযোগসন্ধানী ব্যক্তিরা দলে প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ পাচ্ছেন। দলকে শক্তিশালী করতে হলে তৃণমূলের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে।”
সমাবেশ শেষে সদ্য কারামুক্ত পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমান সজিবসহ কারামুক্ত বিএনপি নেতাদের ফুলের মালা পরিয়ে সংবর্ধনা জানান নেতাকর্মীরা। এ সময় কারামুক্ত নেতারা তাদের দ্রুত মুক্তিতে সামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু ভূমিকা রাখায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে তাঁর নেতৃত্বে দলীয় কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে অঙ্গিকারাবদ্ধ হোন।