বোয়ালমারী প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের বাগুয়ান গ্রামের এক হিন্দু যুবকসহ পরিবারে ৪ সদস্যের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক মুসলিম মেয়ের সাথে প্রতারণা, টাকা আত্মসাৎ ও বিয়ের চাপ দেওয়ায় আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করছে ভুক্তভোগী তরুণী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাগুয়ান গ্রামের সুনীল সূত্রধরের ছেলে সৌদি আরব প্রবাসী হৃদয় সূত্রধর নিজের পরিচয় গোপন রেখে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে গাজীপুরের এক মুসলিম কর্মজীবী তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। সম্পর্কের দুই বছর পর হৃদয় সূত্রধরের আসল পরিচয় জানতে পেরে তরুণী সম্পর্কের ইতি টানতে চাইলে সে ধর্মান্তরিত হয়ে তাকে বিয়ের আশ্বাস দেন। তাকে বিয়ে না করলে আত্মহত্যা করবে বলে জানান হৃদয়। এমনকি সে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে দোয়া-দরুদ, নামাজ, রোজা ও ইসলামী ধর্মীয় রীতিনীতি আচার অনুষ্ঠান রপ্ত করে।
তার পরিবারের একাধিক সদস্য বিষয়টি জানেন ও বিশ্বাস স্থাপনের লক্ষ্যে তাদের সাথে ভুক্তভোগী তরুণীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেন হৃদয়। সম্প্রতি হৃদয় সূত্রধর ছুটিতে দেশে আসেন। দেশে অবতরণ করে ভুক্তভোগী তরুণীর সাথে রাত্রি যাপনসহ একদিন সময় কাটান। এ সময় তাকে বিয়ের প্রস্তুতির ও ধর্মান্তরিত হওয়ার কথা বলে তরুণীর কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে গ্রহণ করেন। ভুক্তভোগী তরুণী জানান, সে দেশে আসার আগেই আমাকে এয়ারপোর্টে তাকে রিসিভ করতে বলেন, আমি তাকে এয়ারপোর্ট থেকে নিয়ে আসি ও একটি হোটেলে রাত্রিযাপন করি। পরের দিন তার এলাকা থেকে তার আপন ও চাচাতো ভাই এসে তাকে কৌশলে বাড়িতে নিয়ে যায়। বাড়িতে গিয়ে সে ধর্মান্তরিত না হওয়ার কথা জানায়। আমি চাপ প্রয়োগ করলে সে তার কাছে থাকা আমার কিছু আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে। এসময় তার পরিবারের সদস্যদের আমার সাথে প্রতারণা করার বিষয়ে বিচার চেয়ে নালিশ দিলে তারা জানায় হৃদয় বিদেশে চলে গেছে। আমি প্রথমে বিষয়টি বিশ্বাস করিনি। পরে তার বাড়িতে গেলে হৃদয়ের পরিবার আমাকে অপমান করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।
পরে মামলা করার কথা বললে হৃদয় সৌদি থেকে টাকা ফেরতের আশ্বাস দেয় ও আমাকে বোয়ালমারীতে নিয়ে অন্যান্য অভিযুক্তদের মাধ্যমে আপোষের চেষ্টা চালান। তবে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে মোবাইল ফোনে তিনি বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেলেও তা যৎসামান্য।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত সুনীল সূত্রধর জানান, অভিযোগকারি তরুণী আমার ছেলেকে ট্রেপে ফেলে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তিন বছর ছেলে বিদেশে থাকলেও একটি টাকাও দেশে পাঠায়নি। সব এই মেয়ের পিছনে ঢেলেছে। তবে তিনি মেয়ের সাথে আপোষের বিষয়ে বলেন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা করেছিলাম বলে স্বীকার করেছেন।
এ মামলায় হৃদয় সূত্রধর ছাড়াও অন্যান্য অভিযুক্তরা হলেন হৃদয়ের বাবা সুনীল সূত্রধর, ভাই সুজন সূত্রধর, চাচাতো ভাই সজীব সূত্রধর। মামলাটির আইনজীবী মো. মাজহারুল আলম জানান - আমার মক্কেলের সরলতার সুযোগ নিয়ে তার সাথে হৃদয়সহ তার পরিবারের একাধিক সদস্য পরিচয় গোপন করে প্রতারণা করেছে, অর্থ আত্মসাৎ করেছে এমনকি তার ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা প্রকাশের হুমকি দিয়ে দণ্ডনীয় অপরাধ করেছে। আমি আশাবাদী আদালত ন্যায় বিচারের মাধ্যমে এ বিষয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে যাতে এ ধরনের অপরাধ কেউ না করে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : অ্যাডভোকেট কোরবান আলী
Copyright © 2026 Boalmari Barta. All rights reserved.