বোয়ালমারী প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে এক কথিত সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ মা-বাবাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। পেনশনের টাকা ও সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় বৃদ্ধ দম্পতিকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছে ছেলে কথিত সাংবাদিক মো. লুৎফর রহমান ও পুত্রবধু তানজিরা বেগম। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মমতাজ বেগম (৭০)।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, বোয়ালমারী পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড ছোলনা গ্রামের বাসিন্দা মোছা. মমতাজ বেগম (৭০) ও বোয়ালমারী খাদ্য গুদামের সাবেক নৈশ্য প্রহরী মো. শাহিদ মোল্যা (৭৫) দম্পতি। বর্তমানে দুজনেই বয়োবৃদ্ধ, অসুস্থ অবস্থায় দিনাতিপাত করে আসছেন। এর মধ্যেই পেনশনের টাকা ও বসতভিটার জমি লিখে দিতে বৃদ্ধ মা-বাবার উপর চাপ সৃষ্টি করে তাদের বড় ছেলে লুৎফর রহমান ও পুত্রবধু তানজিনা বেগম। টাকা ও জমি লিখে না দেওয়ায় তারা গত ২৩ জুলাই বৃদ্ধ মা-বাবাকে মারধর করেন এবং বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখান। এমনকি জমি লিখে না দিলে তাদেরকে জানে মেরে ফেলার হুমকি দেন তারা।
ভুক্তভোগী বৃদ্ধ মোছাঃ মমতাজ বেগম বলেন, জীবনের শেষ সময়ে একটু শান্তিতে বসবাস করার কথা থাকলেও আমার বড় ছেলে মোঃ লুৎফর রহমান (৫০) এবং তার স্ত্রী তানজিরা বেগম (৪০)-এর অব্যাহত নির্যাতন, ভয়ভীতি ও জবরদস্তির কারণে আমি, আমার স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা মানবেতর জীবনযাপন করছি। তারা দীর্ঘদিন ধরে আমার স্বামীর সম্পত্তি, পেনশনের অর্থ ও জমিজমা তাদের নামে লিখে দিতে চাপ সৃষ্টি করে আসছে। জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিতে চেষ্টা করেছে। আমি এবং আমার স্বামী তাদের অন্যায় দাবিতে রাজি না হওয়ায় তারা আমাকে ও আমার স্বামীকে গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করে।
মমতাজ বেগম আরও জানান, ছেলের আচরণে তিনি, তার স্বামী এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। এমন আশঙ্কা থেকে তিনি প্রশাসনের কাছে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, লুৎফর রহমান মুন্সিগঞ্জে খন্ডকালীন সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করেন। পড়ালেখা করেছেন ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত। অথচ তিনি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলা দাঁপিয়ে বেড়ান এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মো. লুৎফর রহমান বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
প্রকাশক ও সম্পাদক : অ্যাডভোকেট কোরবান আলী
Copyright © 2026 Boalmari Barta. All rights reserved.