বোয়ালমারী প্রতিনিধি: দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে ডান পা, থমকে গেছে জীবনযাত্রা। একসময় জমিতে লাঙল ধরতেন, অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করে সংসার চালাতেন। এখন সেই কৃষক সিদ্দিক শেখের দিন কাটে ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে। হাঁটতে না পারার কষ্টের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অসহায়ত্ব আর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা। তবে সেই অন্ধকার জীবনে কিছুটা আশার আলো হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন বোয়ালমারী পৌরসভার বার বার নির্বাচিত সাবেক কাউন্সিলর ও আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী বিএনপি নেতা শেখ আজিজুল হক। নিজের অর্থায়নে সিদ্দিক শেখকে একটি হুইলচেয়ার উপহার দিয়ে যেন তার হাতে তুলে দিয়েছেন আবারও মানুষের মাঝে ফেরার একটি পথ। সিদ্দিক শেখ বোয়ালমারী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের লোকনাথ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত ছামাদ শেখের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে ব্যাটারিচালিত দুটি অটোভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন সিদ্দিক। দুর্ঘটনায় তার ডান পায়ের লিগামেন্ট ও হাঁটুর জয়েন্ট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘ কয়েক মাস চিকিৎসা চালিয়েও পা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তে হাঁটুর নিচ থেকে তার ডান পা কেটে ফেলতে হয়।
পঙ্গু হাসপাতালে কয়েক মাস চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফিরলেও স্বাভাবিক জীবনে আর ফিরতে পারেননি তিনি। সামান্য জমিজমা ও বর্গা চাষের ওপর নির্ভর করে চলা এই কৃষকের জীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ। চলাফেরার সামর্থ্য হারিয়ে অনেকটা গৃহবন্দী হয়ে পড়েন তিনি। কাজ করতে না পারায় সংসারের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয় দুশ্চিন্তা।
সিদ্দিকের অসহায়ত্বের খবর পেয়ে তার বাড়িতে ছুটে যান শেখ আজিজুল হক। কথা বলেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে, খোঁজ নেন সিদ্দিকের চিকিৎসা ও বর্তমান অবস্থার। পরে নিজের অর্থায়নে তাকে একটি হুইলচেয়ার উপহার দেন।
হুইলচেয়ারটি হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সিদ্দিক শেখ। আনন্দ ও কষ্ট মিশ্রিত চোখের পানিতে তিনি বলেন, “আমি ভেবেছিলাম, হয়তো জীবনের বাকি সময়টা বিছানায় শুয়েই কাটাতে হবে। কখনো ভাবিনি আমার নিজের একটি হুইলচেয়ার হবে। আজিজুল ভাই আমাকে হুইলচেয়ার দিয়ে আবার মানুষের মাঝে ফিরিয়ে দিলেন। আমার তো তাকে দেওয়ার মতো কিছুই নেই, শুধু আল্লাহর কাছে তার জন্য দোয়া করতে পারি। আল্লাহ যেন তাকে সুস্থ রাখেন, ভালো রাখেন এবং মানুষের খেদমত করার আরও সুযোগ দেন।”
শেখ আজিজুল হক বলেন, “আমার বাবা শেখ আক্কাস আলী ছিলেন বোয়ালমারীর জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অন্যতম পুরোধা ও থানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তিনি আমৃত্যু মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। আমরা সেই আদর্শেরই অনুসারী। মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারা, অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারার মধ্যেই আমাদের আনন্দ। আমি মানুষের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না, শুধু দোয়া চাই—যেন সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের খেদমত করে যেতে পারি।”
স্থানীয়রা জানান, শেখ আজিজুল হক তার নিজ এলাকা ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পাশাপাশি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। সড়ক উন্নয়নসহ জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও তাকে সক্রিয় দেখা যায়। আগামী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ রয়েছে শেখ আজিজুল হকের। তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে সিদ্দিক শেখের মতো একজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তার চলার পথ সহজ করার উদ্যোগটি স্থানীয়দের কাছেও মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রশংসা ভাসছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : অ্যাডভোকেট কোরবান আলী
Copyright © 2026 Boalmari Barta. All rights reserved.