পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী আরমানকে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তার গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পরলে এলাকায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ জুন ভোরে খুলনার একটি মসজিদের ভেতরে ঢুকে সন্ত্রাসীরা ব্যবসায়ী লোকমান হাকিম ও আলম শেখ (৫৫) নামে দুই ব্যক্তিকে গুলি করে। এতে দুজনই গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করা হয়।
মামলাটির তদন্তের একপর্যায়ে সাজ্জাদ হোসেন নামে একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশ দাবি করেছে, জিজ্ঞাসাবাদে মসজিদের ভেতরে ওই হামলায় আরমানের নেতৃত্বের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়। এরপর থেকেই তাকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর ছিল।
পুলিশ সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ৭ মে আরমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে হত্যা, আগ্নেয়াস্ত্র ও দস্যুতাসহ অন্তত সাতটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে একই বছরের ২৮ নভেম্বর উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি।
আত্মগোপনে থাকার সময়ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে আরমানের নাম উঠে এসেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। গত ১৬ মার্চ দৌলতপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রাশিকুল আনাম রাশুকে গুলি করে হত্যার ঘটনাতেও তার নাম উঠে আসে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। ওই ঘটনায় সন্ত্রাসী নাসিমুল গণি ওরফে নাসিমের সঙ্গেও আরমানের নাম আলোচনায় আসে।
এরই মধ্যে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আরমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তিনি কীভাবে বোয়ালমারীতে অবস্থান করছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে তার সঙ্গে আর কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে কী ধরনের অস্ত্র ও কত রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানানো হবে বলে জানা গেছে।
এদিকে আরমানের গ্রেপ্তার ও অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধারের বিষয়ে র্যাব-৬, খুলনার পক্ষ থেকে সোমবার সকালে প্রেস ব্রিফিং করার কথা রয়েছে। এতে র্যাব-৬-এর উপ-অধিনায়ক ও সিপিএসসি কোম্পানি কমান্ডার মেজর নাজমুল ইসলাম উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরমানের গ্রেপ্তারের প্রেক্ষাপট, তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাসমূহ, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিস্তারিত তথ্য এবং খুলনায় সাম্প্রতিক বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে তার কথিত সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য তুলে ধরা হতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, মসজিদের ভেতরে দুই ব্যক্তিকে গুলি করার ঘটনায় আরমানের কথিত নেতৃত্বের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হামলার উদ্দেশ্য, ঘটনায় আর কারা জড়িত ছিল এবং অস্ত্রের উৎস কী—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
বোয়ালমারী থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আরমান গ্রেপ্তারের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর তদন্তেও নতুন তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষে নিশ্চিত হবে।
স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, গুরুতর একাধিক মামলার আসামি হিসেবে পরিচিত আরমান আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় কীভাবে বোয়ালমারীতে অবস্থান করছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে তার কোনো সহযোগী বা যোগাযোগ ছিল কি না। এ বিষয়টিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : অ্যাডভোকেট কোরবান আলী
Copyright © 2026 Boalmari Barta. All rights reserved.