
আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় হযরত শাহসূফী আব্দুল খালেক মুন্সি কাদরিয়া ডক্ সাহেবের (রহ.) ৪৮তম বাৎসরিক ওরশ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা এবং পবিত্র রমজান মাসের পবিত্রতা রক্ষায় প্রশাসনের অনুমতি না থাকায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) পৌর এলাকার ইশাপাশা গ্রামে অবস্থিত ডক্ সাহেবের কেন্দ্রীয় দরবার শরীফ “বিশ্ব স্মৃতি কাদের মঞ্জিল” ইছাপাশা পাক দরবার শরীফে গিয়ে পুলিশ ওরশের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আধ্যাত্মিক সাধক আব্দুল খালেক মুন্সি কাদরিয়া ডক্ সাহেবের মৃত্যুর পর থেকেই দরবার শরীফের নিয়ন্ত্রণ ও ওরশ পরিচালনা নিয়ে তার দুই পুত্রএ মাঃ ওবায়দুর রহমান মুন্সী ও সিরাজুল ইসলাম মুন্সীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। গত ২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল ওবায়দুর রহমান মুন্সীর মৃত্যুতে একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। এ বছর ওবায়দুর রহমানের পুত্র ও দরবার শরীফের বর্তমান পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. ওহিদুজ্জামান মুন্সী (নাঈম) ওরশ আয়োজনের ঘোর বিরোধিতা করেন। অন্যদিকে তার চাচা সিরাজুল হক মুন্সি ৫ মার্চ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত ৫ দিনব্যাপী ৪৮ তম ওরশের ঘোষণা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এছাড়া চলতি বছর ওরশের নির্ধারিত সময়ে পবিত্র রমজান মাস চলমান থাকায় স্থানীয় এলাকাবাসীও রোজা রেখে ওরশ না করার পক্ষে মতামত দেন। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্থানীয় প্রশাসন ওরশের অনুমতি প্রদান করেনি।
দরবার শরীফের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. ওহিদুজ্জামান মুন্সী (নাঈম) অভিযোগ করেন, ‘আমার চাচা সিরাজুল হক মুন্সি অবৈধ ও দখলদারি কায়দায় নিজেকে পরিচালক দাবি করে এই আয়োজন করেছিলেন। তাকে এই কাজে সহায়তা করছেন চাচাতো ভাই রিয়াজ মুন্সি ও দরবার শরীফের খাদেম ওমর মৃধা। আমার পিতা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, মামলা চলছে। ছাড়া এমন পরিস্থিতিতে আমি দরবার শরীফের এক মাত্র বৈধ পরিচালক তারা আমার কোন অনুমতি ছাড়া এবং কমিটির কোনো রেজুলেশন ছাড়াই তাদের এই আয়োজন সম্পূর্ণ অবৈধ।’ তাদের কার্যকলাপে দরবার শরীফের ক্ষমতা ও সম্পদ দখলের লোভে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আমার পিতা হত্যাকান্ডে শিকার হয়েছেন, তারা যদি অবৈধ ভাবে ওরশ মোবারক করতে পারে তা হলে আমার ও আমার পরিবারের আবার প্রাণ নাশের হুমকি হয়ে দাড়াবে বলে মনে করেন। তাদের সকল অবৈধ কার্যক্রম দরবার শরীফে আর আয়োজন করতে না পারে এই বিষয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অন্যদিকে আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও পরিচালক দাবি করা সিরাজুল হক মুন্সি বলেন, ‘প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় আমরা ওরশের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলাম। কিন্তু প্রশাসন এসে কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।’
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত খান জানান, ‘প্রশাসনের কোনো পূর্বানুমতি না থাকায় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ওরশের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’