
অফিসিয়াল সময়ে সরকারি স্লিপে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী রেফার! জনমনে উদ্বেগ ও গুঞ্জন
ফরিদপুর, ১ এপ্রিল ২০২৬: ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. ইজাজ আহমেদ শাওনের বিরুদ্ধে সরকারি অফিসিয়াল সময়ে সরকারি প্রেসক্রিপশন স্লিপ ব্যবহার করে নিজের নামের অফিসিয়াল সিল ও স্বাক্ষর দিয়ে বেসরকারি প্রাইম ডায়াগনস্টিক সেন্টারে টেস্ট করানোর জন্য রোগীদের রেফার করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় জনমনে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে এবং স্বাস্থ্যসেবার নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
অভিযোগকারীদের মতে, ডা. শাওন একাধিক প্রেসক্রিপশনে সরকারি স্লিপ ব্যবহার করে রোগীদের ওই নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠান। এটি ঘটছে সরকারি দায়িত্ব পালনের সময়, যা সরাসরি সরকারি নিয়মের পরিপন্থী বলে মনে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমুল হাসানের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করা হলে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, “একজন সরকারি ডাক্তার অফিসিয়াল সময়ে এ ধরনের কাজ করতে পারেন না।”
সরকারি নিয়মের আলোকে বিশ্লেষণ:
বাংলাদেশের ‘মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিক্স অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’-এর ৪ ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, “রিপাবলিকের সার্ভিসে নিয়োজিত কোনো নিবন্ধিত চিকিৎসক অফিস ঘণ্টায় বেসরকারি মেডিকেল প্র্যাকটিস করতে পারবেন না।” এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) সাম্প্রতিক নির্দেশনায় সরকারি ডাক্তারদের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সুবিধা ব্যবহার করে রোগী রেফার করা নিষিদ্ধ। সরকারি সম্পদ (স্লিপ, সিল, স্বাক্ষর) ব্যবহার করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রোগী চ্যানেলিং করা নৈতিকতা ও আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়। এতে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হয় এবং সরকারি সেবার ওপর মানুষের আস্থা কমে।
ডা. ইজাজ আহমেদ শাওন বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত। এ অভিযোগ যদি সত্য হয়, তাহলে তা শুধু ব্যক্তিগত নয়, পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সুনাম ক্ষুণ্ণ করবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
জনমনে গুঞ্জন ও প্রতিক্রিয়া:
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বোয়ালমারীসহ আশপাশের এলাকায় নানা ধরনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে বলছেন, “সরকারি হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলে তিনি সরাসরি বেসরকারি টেস্ট সেন্টারে পাঠিয়ে দেন—এতে রোগীদের অতিরিক্ত খরচ হয়।” কেউ কেউ এটিকে ‘কমিশন বাণিজ্য’ বলে অভিহিত করেছেন। স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি আস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
স্বাস্থ্য খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জনগণের অধিকার। এ ধরনের অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে সরকারি চিকিৎসকদের নৈতিকতা রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। বোয়ালমারীবাসী এখন তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছেন—যাতে সত্য উদঘাটিত হয় এবং স্বাস্থ্যসেবা তার সঠিক পথে ফিরে আসে।
এবিষয়ে ডা. ইজাজ আহমেদ শাওনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করে বন্ধ পাওয়া গেছে।