
অ্যাড. কোরবান আলী:
হোয়াটসঅ্যাপে একটি ম্যাসেজ পেলাম। পড়ে দেখি, ফরিদপুর ১ আসনের এমপি ড. মো. ইলিয়াস মোল্লার ৪ মার্চের দিনব্যাপী কয়েকটি কর্মসূচি। কর্মসূচির শেষে লেখা ছিল উক্ত প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। ম্যাসেজ পাওয়ার ঘন্টাখানেক পর বার্তা কার্যালয়ে উপস্থিত হন পৌর জামায়াতের আমীর সৈয়দ নিয়ামুল হাসান। জানতে চাইলো- ম্যাসেজটি পেয়েছি কিনা? হ্যাঁ বলার সাথে উপস্থিত থাকবেন বলে বিদায় নিলেন।
‘কর্মসূচি ছিল : *সকাল: ০৯:৩০০মি: থেকে সকাল ১০:৩০ মি: পর্যন্ত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে সংবর্ধনা+ইউএনওর যাকাত ফান্ডে অর্থ প্রদান। সকাল ১০:৩০ মি: থেকে সকাল: ১১:০০ পর্যন্ত মহিলা সমাবেশ। সকাল ১১:০০ টা থেকে দুপুর ১২:০০ টা পর্যন্ত এসিল্যান্ড অফিস পরিদর্শন। দুপুর ১২:০০টা দুপুর :০১:০০ মি: ডা: দিলীপ রায় হোমিও কলেজে সংবর্ধনা। দুপুর ০১:০০ টা থেকে দুপুর ০২:০০ পর্যন্ত জোহরের নামাজের বিরতি। দুপুর ২:০০ টা বিকাল ০৩:০০ টা পর্যন্ত বণিক সমিতির সাথে মতবিনিময়। বিকাল ০৩:০০টা থেকে বিকাল ৪:০০টা পর্যন্ত রেজিষ্ট্রি অফিস পরিদর্শন। বিকাল ৪:০০টা থেকে বিকাল ৪:৪৫ মি: পর্যন্ত বাজার পরিদর্শন। বিকাল ৪:৪৫ মি: বিকাল ৫:০০টা পর্যন্ত সালাতুল আসরের বিরতি। বিকাল ৫:০০ টা থেকে বিকাল ৫:২০ মি: পর্যন্ত ইফতার মাহফিল শেখর ইউনিয়নের সহসরাইল বাজার। বিকাল ৫:২০ মি: থেকে সন্ধ্যা ৬:০৫ মি: পর্যন্ত বোয়ালমারী পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডে ইফতার মাহফিল রাতের খাবার।’
এর মধ্যে বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলাম। যা বুঝলাম, এলাকার মানুষের জন্য ভালো কিছু করার প্রচন্ড রকমের ইচ্ছে আছে এমপি মহোদয়ের। ধৈর্য্য সহকারে সবার কথা শুনেছেন। সমস্যার কথা শুনেছেন, অভিযোগকারীদের অভিযোগ শুনেছেন। অনেকে অনেক রকম আবদার অনুরোধ করেছেন, সেটাও শুনেছেন। শুনেছেন সম্ভাবনার কথা। কিভাবে সমাধান করা যায়, তারও পথ দেখিয়ে দিয়েছেন তিনি। তাঁর সাফ কথা- আপনাদের ভোটে আমি যে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা পেয়েছি, সেই ক্ষমতার সৎব্যবহার করে আপনাদের জন্য ভালো কিছু করতে চাই। আমার এই সরল ব্যবহার কেউ দুর্বল মনে করবেন না। আজকে বলে যাচ্ছি, আমরা সবাই সংশোধন হবো। আজকের পর থেকে অনিয়ম দেখলে আমি কঠোর হতে বাধ্য হবো। সবাই মিলে ভালো কিছু করবো। তাঁর এই কথা শুনে ভালো কিছু করার প্রতিশ্রুতি দেন উপস্থিত সকলে।
তিনি আরও বলেন, আমার নামে কোনো পার্সেন্টেজ যাবে না। দয়া করে আপনারাও কেউ পার্সেন্টেজ নিবেন না এবং কাউকে দিবেনও না। তার আচার-আচরণে, আলাপ ব্যবহারে এলাকার লোকজন ভুল মানুষকে ভোট দেননি বলে মন্তব্য করেছেন অনুষ্ঠানে আগত অনেকেই।
আমি বলি, সবে মাত্র শুরু। সামনের রাজনৈতিক পথ ফুলের পাপড়ি দিয়ে মোড়ানো থাকবে না। উত্তপ্ত মরু বালুকণার উপর দিয়েই চলতে হবে তাকে। বিপদ সঙ্কুল সে পথে হোচট খেলেই মহাবিপদ। তবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস- দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় তিনি সবাইকে সাথে নিয়ে রাজনৈতিক বৈতরণী পার হতে পারবেন। শুরু ভালো যার, শেষটাও ভালো হবে তাঁর। এ আশায় রইলাম আমরা ফরিদপুর -১ আসনের জনগণ।
এ সময় তার সফর সঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-১ আসনের নির্বাচনী সদস্য সচিব মাওঃ মোঃ শহিদুল ইসলাম, বোয়ালমারী উপজেলা জামায়াতের আমীর হা. মাও. বিলাল হোসাইন, পৌর জামায়াতের আমির সৈয়দ নিয়ামুল হাসান, সেক্রেটারী সৈয়দ সাজ্জাদ আলী প্রমুখ।
উল্লেখ্য- প্রফেসর ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা এমপি হওয়ার পর এটি আমার দ্বিতীয় লেখা। প্রথম লেখাটি ছাপা হয়েছিল বোয়ালমারী বার্তার ১৫ ফেব্রুয়ারি ৮ম সংখ্যায়। শিরোনাম ছিল ‘মাননীয় এমপি ড. ইলিয়াস মোল্লা আপনার কাছে আমার এবং আমাদের প্রত্যাশা’।