
ফরিদপুরের বোয়ালমারীর ভাটপাড়া গ্রামের আব্দুল কাইয়ুমের সংসার খুব বড় ছিল না। তবুও তার ছোট ছেলে তৌহিদকে ঘিরেই ছিল অনেক স্বপ্ন। ছেলেটি বাড়ি থেকে বের হলে মা বারবার বলতেন, “বাবা, তাড়াতাড়ি ফিরে আসিস।” কে জানত, সেই ডাক একদিন শুধু স্মৃতি হয়ে থাকবে।
গত দু’দিন থেকে তৌহিদের কোনো খোঁজ ছিল না। পরিবারের চোখে তখন শুধু অপেক্ষা আর উদ্বেগ। বাবা গ্রামের পথে পথে খুঁজেছেন, আত্মীয়-স্বজনের কাছে খোঁজ নিয়েছেন। মায়ের চোখে ঘুম ছিল না, ছিল শুধু সন্তানের ফিরে আসার আকুতি।
কিন্তু বুধবারের সকালটি নিয়ে এলো এক নির্মম সংবাদ। গ্রামের পাশের পাটক্ষেতে পড়ে থাকা একটি নিথর দেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে সবাই জানতে পারে, সেটি তৌহিদ।
খবরটি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে পুরো গ্রামে। যে ছেলেটিকে সবাই হাসিখুশি দেখেছে, সে আজ নিথর। পাটক্ষেতের সবুজ পাতার নিচে পড়ে ছিল একটি পরিবারের সমস্ত স্বপ্ন।
তৌহিদের মরদেহ উদ্ধারের সময় বাবার অসহায় দৃষ্টি আর মায়ের আহাজারি উপস্থিত মানুষের হৃদয় ভারী করে তোলে। কেউ সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পায়নি। শুধু নিস্তব্ধ বাতাস যেন বারবার প্রশ্ন করেছে—এভাবে কি শেষ হওয়ার কথা ছিল একটি তরুণ জীবনের?
আজ ভাটপাড়ার মানুষ তৌহিদকে স্মরণ করে। আর তার পরিবারের চোখে এখনো জেগে আছে সেই অপেক্ষা, যে অপেক্ষার আর কোনো ফিরে আসা নেই।