
অ্যাড. কোরবান আলী: সফল মানুষের জীবনের মূলমন্ত্র হলো ধৈর্য্য, কঠোর পরিশ্রম ও ব্যর্থতা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য ইচ্ছে। বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনী পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, রাতারাতি নয় বরং তিল তিল করে নিজেদের লক্ষ্য পূরণে কাজ করার ফলেই তারা অনন্য উচ্চতায় পৌছাতে পেরেছেন। এরকম একজন মানুষ হলেন ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার চতুল ইউনিয়নের চতুল গ্রামের কৃর্তিসন্তান সফল ব্যবসায়ী সুশিক্ষিত আফতাব উদ্দীন আহমেদ, পিতার নাম মৃত আব্দুল ওহাব মোল্যা, মাতার নাম মৃত আনোয়ারা বেগম।
তিনি ১৯৬৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর চতুল গ্রামের উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। চতুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শুরু করে ১৯৮১ সালে বোয়ালমারী জর্জ একাডেমী থেকে এসএসসি। ১৯৮৩ সালে বোয়ালমারী সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি। এরপর ১৯৮৩ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৯৮৭ সালে অনার্সসহ মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। আফতাব আহমেদ কর্মজীবনের শুরুতে সরকারি চাকুরি করেন। এরপর চাকুরি ছেড়ে দিয়ে নিজ উদ্যোগে ব্যবসা শুরু করেন। তিনি এফবিসিসিআই ও ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স-এর সম্মানিত সদস্য। বর্তমান একজন সফল ব্যবসায়ী। এছাড়া ব্যবসার প্রয়োজনে নিজ উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, সৌদি আরব, দুবাই, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা, নেপাল, ভুটান ও ভারত সফর করেছেন তিনি।
সফল ব্যবসায়ী হওয়ার পরও শুধু ব্যবসার মধ্যে তিনি সীমাবদ্ধ থাকেনি। নিজ গ্রামসহ আশপাশের গ্রামগুলোর সামাজিক প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে মসজিদ মাদ্রাসা, গোরস্থান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাঁর দান অনুদান কম নয়। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড এ ধারণা মাথায় রেখে তার মায়ের নামে গড়ে তুলেছেন আনোয়ারা মডেল একাডেমী। দীর্ঘ কয়েকবছর যাবত তাঁর আর্থিক অনুদানেই চলছে প্রতিষ্ঠানটি। এদিক থেকে বলা যায় তিনি একজন সফল মানুষ গড়ার কারিগড়ও। প্রতিনিয়ত সাহায্য সহযোগিতার হাত খোলা রেখেছেন তিনি। বিশেষ করে দুই ঈদে বাড়ি এসে এলাকার দারিদ্র পীড়িত মানুষের ঘরে ঈদ সামগ্রী পাঠিয়ে তাদের মুখে হাসি ফোটাতে ব্যস্ত থাকেন তিনি। শুধু লেখাপড়াই নয়, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে যুবকদেরকে খেলাধুলার প্রতি উৎসাহ দিয়ে থাকেন। এছাড়া প্রতি বছর শীতকালে এলাকার সুবিধাবঞ্চিত হাজারও মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন।
১৯ জুলাই শেষ হলো বোয়ালমারী স্টেডিয়ামে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত মিনি বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্ট। বিশ্বকাপের আদলে পরিচালিত হয় খেলাটি। এলাকার ৪৮টি দল অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ১৭ জুন প্রথম খেলায় অংশগ্রহণ করে বার্তা স্পোর্টিং ক্লাব। ৭টি ম্যাচে অংশগ্রহণ করে প্রতিটি ম্যাচেই সফলতার সাথে বিজয় লাভ করে। সেমিফাইনাল ও ফাইনালে হাজার হাজার দর্শকদের মন জয় করে ১৯ জুলাই চূড়ান্ত বিজয় লাভ করে বার্তা স্পোর্টিং ক্লাব। কুশাডাঙ্গা, লোকনাথ, কলারণ ও মধ্যেরগাতী ৪ গ্রামের হাজার হাজার মানুষের সার্বিক সহযোগিতা ছিল ক্লাবটিতে। এর মাঝেই একটি ম্যাচ খেলতে গিয়ে একজন খেলোয়ারের পা ভেঙে যায়। আর্থিক সঙ্কটের মধ্য দিয়ে চলতে থাকা এ ঘটনাটি ছিল ক্লাবটির বড় চ্যালেঞ্জ। শুধু এটাই নয় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নানাবিধ পাহাড়সম বাধা অতিক্রম করতে হয়েছে দৃঢ়তার সাথে। বিপদ সংঙ্কুল মুহুর্তে আমাকে শক্তি ও সাহস যুগিয়েছে আমার এই প্রিয় বড়ভাই আফতাব উদ্দীন আহমেদ। শেষ খেলায় হাজার হাজার দর্শকদের মাঝে বার্তা ক্লাবের লেমন কালারের শতাধিক টিশার্ট পড়ে দর্শক গ্যালারিতে ম্যাচের যে শোভাবর্ধন বাড়িয়েছিল এগুলো ছিল তাঁরই দেয়া বিশেষ উপহার। আশা করি, এলাকার উন্নয়নে, সমাজ বিনিমার্ণে যুবকদের প্রতি তাঁর উদার মনমানসিকতা আরও প্রসারিত হবে। তাঁর সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিবেন বার্তা স্পোর্টিং ক্লাবের প্রতি। তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় বার্তা পরিবার।