
বোয়ালমারী প্রতিনিধি: দেশের জন্য অকাতরে প্রাণ দেওয়ার চেতনা অনেকের থাকলেও সেই পুণ্য অর্জন করার সৌভাগ্য সবার হয় না। এমনই এক বীরের নাম শহীদ এএসআই দীনেশ কুমার বিশ্বাস (বি.পি.এম)। যিনি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ধোপাপাড়া গ্রামের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ও গর্ব। আজ ১৭ আগস্ট এই বীর পুলিশ কর্মকর্তার ২৪তম শাহাদাত বার্ষিকী। ২০০২ সালের ১৭ আগস্ট ঢাকার রাস্তায় কর্তব্য পালনকালে সন্ত্রাসীদের নির্মম গুলিতে শহীদ হন সাহসী এই পুলিশ সদস্য। দেখতে দেখতে তাঁর আত্মত্যাগের চব্বিশটি বছর কেটে গেলেও, আজ যেন নিজ গ্রামে কিংবা রাষ্ট্রীয়ভাবে তাঁর খোঁজ নেওয়ার মতো কেউ নেই। সেদিন সন্ত্রাসীদের গুলিতে শুধু একজন পুলিশ সদস্যই প্রাণ হারাননি; স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল একজন গুণী সংগীত শিল্পী, একজন আদর্শ বাবা, একজন স্নেহময় সন্তান, একজন প্রিয় স্বামী এবং দায়িত্ববান এক ভাইয়ের জীবন। কর্তব্যনিষ্ঠার অনন্য স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি মরণোত্তর ‘বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল’ (বি.পি.এম) উপাধিতে ভূষিত হন। মৃত্যুকালে তিনি পেছনে রেখে গেছেন এক গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিগাঁথা। আজ চব্বিশ বছর ধরে অভাগিনী স্ত্রী বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্সিং সুপারভাইজার অনিমা রানী বিশ্বাস, দু’টি সন্তান প্রিন্স বিশ্বাস ও প্রিয়াঙ্কা বিশ্বাসসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী তাঁর অভাব বুকে নিয়ে চরম অবহেলা আর কষ্টে বেঁচে আছেন। প্রিয়াঙ্কা বিশ্বাস ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগের ডাক্তার এবং প্রিন্স বিশ্বাস ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। দীর্ঘ এই ২৪ বছরে সমাজ বা রাষ্ট্র তাঁর পরিবারের খোঁজ কতটুকু রেখেছে—তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, বোয়ালমারীর ধোপাপাড়া গ্রাম তথা দেশবাসীর হৃদয়ে শহীদ দীনেশ কুমার বিশ্বাস এক চিরভাস্বর নাম। তাঁর এই মহান আত্মত্যাগের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছে সর্বস্তরের মানুষ।