
বোয়ালমারী প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌরসভার কলারণ গ্রামে মুসলিমা আক্তার (২০) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বিয়ের মাত্র সাত মাসের মাথায় বুধবার (১২ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে হত্যার অভিযোগ করা হলেও পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে।
নিহত মুসলিমা আক্তার পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আমগ্রামের মো. মুরাদ শেখের মেয়ে। সাত মাস আগে পরিবারের অমতে প্রেমের সম্পর্কের জেরে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কলারণ গ্রামের নুর ইসলাম শেখের ছেলে টাইলস মিস্ত্রি সজল শেখের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে মুসলিমার সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না। পারিবারিক কলহের জেরে তাকে হত্যা করে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তাদের ধারণা।
তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহের একপর্যায়ে মুসলিমা ঘরের দরজা বন্ধ করে আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শিঞ্জন সাহা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ডা. শিঞ্জন সাহা বলেন, ‘মুসলিমাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।’
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করার পর মুসলিমার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন মরদেহ হাসপাতালে রেখে সেখান থেকে চলে যান।খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
বোয়ালমারী থানার ওসি (তদন্ত) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আপাতত একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হবে। পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’