
বোয়ালমারী প্রতিনিধি: কেউ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে শেষ সম্বলটুকুও হারিয়েছেন। কেউ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অপেক্ষা করছিলেন ওপেন হার্ট সার্জারির জন্য। আবার কারও প্রয়োজন ছিল কোমরের জটিল অস্ত্রোপচার। অর্থাভাবে যখন তাদের চিকিৎসা প্রায় থমকে যাওয়ার উপক্রম, তখন সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা শেখ আজিজুল হক। তার উদ্যোগে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে চার রোগীর চিকিৎসার জন্য সর্বমোট ৯ লাখ টাকার অনুদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সম্প্রতি সোনালী ব্যাংকের প্রধান শাখার করপোরেট বিভাগের মাধ্যমে চার রোগীর নামে অনুদানের চেক দেওয়া হয়। এর মধ্যে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আমগ্রামের আফসার উদ্দিনের ছেলে ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত ওমর ফারুক (৩৫) পেয়েছেন ৩ লাখ টাকা। সোতাশী গ্রামের পাকস্থলীর ক্যান্সারে আক্রান্ত সুজন দাস (৪০) পেয়েছেন ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কামারগ্রামের সিদ্দিক মোল্যার ছেলে স্বপন মোল্যার ওপেন হার্ট সার্জারির জন্য দেওয়া হয়েছে ২ লাখ টাকা। একই গ্রামের জামাল বিশ্বাসের ছেলে রমজান বিশ্বাসের কোমরের জটিল অস্ত্রোপচারের জন্য দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জটিল এসব রোগে আক্রান্ত চারজনই অর্থসংকটে চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে পারছিলেন না। তাদের অসহায়ত্বের বিষয়টি জানতে পেরে সহায়তার উদ্যোগ নেন শেখ আজিজুল হক। পরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সোনালী ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে অনুদানের ব্যবস্থা করা হয়।
বোয়ালমারী পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী ও বার বার নির্বাচিত সাবেক কাউন্সিলর শেখ আজিজুল হক বলেন, গণমাধ্যমে সুজন দাসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার এবং অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে না পারার খবর জানতে পারেন তিনি। পরে ওমর ফারুকের সঙ্গেও তার দেখা হয়। ওমর তাকে জানান, ক্যান্সারের চিকিৎসা করাতে গিয়ে জমিজমা বিক্রি করে এখন তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
শেখ আজিজুল হক বলেন, ‘‘প্রথমে ব্যক্তিগতভাবে তাদের কিছু সহায়তা করি। পরে কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাসের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট অনুদান বিভাগে যোগাযোগ করি। এরপর চারজনের জন্য সর্বমোট ৯ লাখ টাকার অনুদানের ব্যবস্থা করা হয়। এ উদ্যোগে সহযোগিতার জন্য অতিরিক্ত সচিব মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাস এবং সোনালী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
অনুদান পাওয়া ওমর ফারুক বলেন, ‘‘আমার চিকিৎসার জন্য আজিজুল ভাই, আজিমুদ্দিন স্যার এবং সোনালী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। বিশেষ করে আজিজুল ভাই আমার জন্য অনেক কষ্ট করেছেন। আল্লাহ তাকে ভালো রাখুন।’’
সুজন দাস বলেন, ‘‘এই টাকা পেয়ে আমার অনেক উপকার হয়েছে। আমি সবার জন্য দোয়া করি। সৃষ্টিকর্তা যেন আজিজুল ভাইয়ের মঙ্গল করেন।’’
উল্লেখ্য, সোনালী ব্যাংকের সিএসআর কার্যক্রমের আওতায় দরিদ্র ও অসহায় মানুষের চিকিৎসা সহায়তা, শীতবস্ত্র বিতরণ এবং দুর্যোগকালীন ত্রাণসহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে।