
বোয়ালমারী প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে জমিজমা বিরোধের জের ধরে সন্ত্রাসী মো. ওহিদ শেখের নেতৃত্বে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে শহিদুল শেখ, শওকত শেখ ও আব্দুর রহিম শেখকে। উপজেলার ময়না ইউনিয়নের আমগাছিয়াডাঙ্গী গ্রামে গত ৫ ডিসেম্বর রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত আব্দুর রহিম শেখ বাদী হয়ে ১৪ ডিসেম্বর বোয়ালমারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ১৯। ১৮৬০ এর প্যানাল কোর্ট এর ধারা: ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৫০৬/(২)/১১৪।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ময়না ইউনিয়নের আমগাছিয়াডাঙ্গী গ্রামের শহিদুল শেখ, আব্দুর রহিম শেখ ও শওকত শেখের সাথে বিবাদী সন্ত্রাসী ওহিদ শেখ, মোঃ আলামিন শেখ, মোসাঃ আলেয়া বেগম এর জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ চলে আসছে। এর রেশ ধরে গত ৫ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাদীর বসত ঘরের সামনে এসে বাদীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। শহিদ শেখ সন্ত্রাসীদের গালিগালাজ করিতে নিষেধ করলে সন্ত্রাসী ওহিদ শেখের নেতৃত্বে শহিদ শেখসহ অন্যান্য সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে রামদা, চাপাতি, ছ্যানদা দিয়ে অতর্কিত হামলা করে শহিদুল শেখ, আব্দুর রহিম শেখ ও শওকত শেখকে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় বাদীর নিকট থাকা নগদ ১,৪৫,৩০০/-টাকা ছিনিয়ে নেয়। বাদীদের শোরচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা জানে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক আহত শওকত শেখকে হাসপাতালে ভর্তি রাখে। গুরুতর আহত শহিদুল শেখ ও আব্দুর রহিম শেখের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। দীর্ঘ ১০ দিন ফরিদপুরে চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হয়ে বোয়ালমারী থানায় আব্দুর রহিম শেখ বাদী মামলা করেন। বাদীপক্ষ অভিযোগ করে বলেন, থানায় মামলা হলেও আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মামলা উঠিয়ে নিতে আমাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে। অনতিবিলম্বে সন্ত্রাসী ওহিদ শেখ ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সরল কুমার বিশ্বাস বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করি দ্রুতই আসামিরা গ্রেপ্তার হবে।