
বোয়ালমারী প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে এক গৃহবধূর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। আত্মহত্যাকারী গৃহবধূর নাম নিলুফা বেগম (৫০)। সে পৌরসভার ছোলনা গ্রামের আরব আলীর স্ত্রী। স্ত্রীকে উদ্ধার করতে গিয়ে স্বামীও মারাত্মক আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বুধবার (৬ মে) সকাল পৌনে ৯টার দিকে পৌরসভার ছোলনা-কুশাডাঙ্গা অরক্ষিত রেলগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বোয়ালমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বামীর সাথে অভিমান করে রেল সড়কের পাশ দিয়ে দৌঁড়াচ্ছিল নিলুফা বেগম। কুশাডাঙ্গা রেলগেট সংলগ্ন আজিজারের দোকানের সামনে এলে গোপালগঞ্জের গোবরা থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে সে। এসময় পিছনে পিছনে চিৎকার করতে করতে ছুটে আসা স্বামী আরব আলী তাকে উদ্ধারের জন্য চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। ততসময় ট্রেনের সাথে ধাক্কা খেয়ে হাত ও মাথার থেঁতলে গিয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয় তার। ট্রেন অতিক্রম করলে স্থানীয়রা স্বামীও তাকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নিলুফা বেগমকে মৃত ঘোষণা করে। স্বামী আরব আলী স্ত্রীকে উদ্ধার করতে গিয়ে নিজেও আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী আসমা বেগম জানান- রেললাইনের পাশ দিয়ে দাঁড়াচ্ছিল সে, এসময় তার স্বামী পিছে পিছে দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে চিৎকার করে স্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, তোর পায়ে ধরি আমার সর্বনাশ করিস না।
বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সিঞ্চন সাহা বলেন – গৃহবধূ নিলুফা বেগমকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। তার হাত মাথাসহ শরীরে বিভিন্ন স্থানে কেটে ও থেঁতলে গিয়ে রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়েছে তার।
বোয়ালমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মৃতদেহ নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে, এ বিষয়ে রাজবাড়ী রেলওয়ে পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। তার এসে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।