
বোয়ালমারী প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে অবস্থিত স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে আদালতে বিচারাধীন একটি মামলাকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে প্রস্তুত করা আবেদনে স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এক সিনিয়র প্রভাষককে অপমান, গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষক সুব্রত কুমার মুখার্জী (৫২) বোয়ালমারী থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগকারী সুব্রত কুমার মুখার্জী কলেজটির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক। অভিযোগে তিনি বলেন, গত ১ জুলাই দুপুর দেড়টার দিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. হোসনেয়ারা বেগম তাকে অফিস কক্ষে ডেকে সাময়িক বরখাস্ত অধ্যক্ষ ফরিদ আহমেদের দায়ের করা একটি মামলাকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন উল্লেখ করে প্রস্তুত করা একটি লিখিত আবেদনে স্বাক্ষর করতে বলেন।
সুব্রত কুমার মুখার্জীর দাবি, আবেদনটি ফরিদপুরের পুলিশ সুপারের কাছে পাঠানোর উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছিল এবং এতে কলেজের শিক্ষকদের স্বাক্ষর নেওয়া হচ্ছিল। তবে আবেদনের বক্তব্যের সঙ্গে একমত না হওয়ায় তিনি স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, স্বাক্ষর না করায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. হোসনেয়ারা বেগম তাকে ধমক দেন এবং আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এ সময় কলেজের বিপণন বিভাগের প্রভাষক মোছা. দিলআশরাফী ও সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক জায়েদা বেগমও তাকে কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন এবং অপমানজনক মন্তব্য করেন। পরে তিনজন মিলে তাকে গালিগালাজ ও ভবিষ্যতে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রভাষক সুব্রত কুমার মুখার্জী বলেন, “কলেজের একাধিক শিক্ষকের সামনে আমাকে অপমান করে অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. হোসনেয়ারা বেগমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”